উত্তরসূরি: শব্দের উত্তরাধিকার, সাহিত্যের সংকল্প | ||
একটি পত্রিকার জন্ম মানেই শুধু নতুন একটি মুদ্রিত সংখ্যা নয়, বরং সময়ের বুকে একটি স্বতন্ত্র চিন্তার সূচনা। ‘উত্তরসূরি’ সাহিত্য পত্রিকা সেই অর্থেই একটি অনন্য প্রয়াস—যেখানে সাহিত্যের ভাষা, চিন্তা ও উত্তরাধিকার এক অবিচ্ছিন্ন প্রবাহে মিলিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আত্মপ্রকাশ করেছে পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা। ‘ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা’ হিসেবে এর কাঠামো নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত অন্বেষণ বহুদূর বিস্তৃত। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত হবে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ, রম্যরচনা- যার মধ্যে থাকনে এক নতুন ভাষাবোধ, এক নতুন পাঠচেতনা, এই আমাদের বিশ্বাস। প্রতিটি সংখ্যায় প্রকাশিত হবে নবীন-প্রবীণ কবি ও সাহিত্যিকের রচনা, তাই হয়ে উঠেবে এটি একটি মেধার সম্মিলন। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় সত্যিকারের ‘উত্তরসূরি’ হয়ে উঠবে—সাহিত্যের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সংলগ্ন বিন্দু-এই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। পত্রিকাটির নামকরণেই রয়েছে তার অন্তর্জ্ঞান— ‘উত্তরসূরি’ শুধু উত্তরাধিকার বহনের কথা বলে না, বরং উত্তর তৈরি করার দায়ও নেয়। যে সময়ের মুখোমুখি আমরা, সেখানে সাহিত্য আর নিছক শিল্পচর্চা নয়—এটি হয়ে উঠেছে অস্তিত্বের প্রতিবাদ, ভাষার মুক্তিযুদ্ধ। উত্তরসূরির প্রথম সংখ্যায় সেই নৈঃশব্দ্য ভেঙে ওঠে কবিদের কণ্ঠে, কথাসাহিত্যিকদের কলমে। পত্রিকার একটি বড় বৈশিষ্ট্য তার বহুধর্মীতা। এখানে গ্রামবাংলার সহজপাঠ যেমন আছে (যেমন লাইপাতা শাক নিয়ে গল্প), তেমনি আছে নাগরিক দংশনের অন্তঃস্থ প্রহরচিত্র। এখানে নারীবাদী কণ্ঠ যেমন উচ্চারিত হয়েছে, তেমনি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক চিন্তাভাবনাও কাব্যে ও কথাসাহিত্যে মুখর। |
এ পত্রিকা কোনো বাণিজ্যিক প্রয়াস নয়। এটি সেইসব মানুষদের জন্য, যারা শব্দকে শুধু উপভোগ করে না, বরং শব্দের ভেতর দিয়ে সময়কে বুঝতে চায়, প্রতিরোধ গড়তে চায়, নিজেকে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চায়। ‘উত্তরসূরি’ তাদেরই এক মানসিক ভূমি—যেখানে সাহিত্য কখনো প্রেম, কখনো প্রতিবাদ, কখনো বা নিঃসঙ্গ আত্মকথন হয়ে ওঠে। আমরা যারা এই পত্রিকার পাঠক—তারা কেবল পাঠ করবো না, বরং এর সঙ্গে এক সহযাত্রী সম্পর্ক গড়ে তুলবো, যেন এই সাহিত্যের নদী আমাদের মধ্য দিয়েই বহে যায় আরও দূরে, আরও গভীরে। উত্তরসূরি শুধুই একটি নাম নয়, এ এক উত্তরদায়িত্ব, যেখানে পূর্বসূরিদের আলোর রেখা ধরে আমরা ছুঁয়ে দেখতে চাই শব্দের আগামী। |